মানসী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী–

পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি

আপন অন্তর হতে। বসি কবিগণ

সোনার উপমাসূত্রে বুনিছে বসন।

সঁপিয়া তোমার ‘পরে নূতন মহিমা

অমর করিছে শিল্পী তোমার প্রতিমা।

কত বর্ণ কত গন্ধ ভূষণ কত-না,

সিন্ধু হতে মুক্তা আসে খনি হতে সোনা,

বসন্তের বন হতে আসে পুষ্পভার,

চরণ রাঙাতে কীট দেয় প্রাণ তার।

লজ্জা দিয়ে, সজ্জা দিয়ে, দিয়ে আবরণ,

তোমারে দুর্লভ করি করেছে গোপন।

পড়েছে তোমার ‘পরে প্রদীপ্ত বাসনা–

অর্ধেক মানবী তুমি অর্ধেক কল্পনা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষিপ্ত জীবনী :


খেয়া

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


খেয়ানৌকা পারাপার করে নদীস্রোতে,

কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।

দুই তীরে দুই গ্রাম আছে জানাশোনা,

সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা।

পৃথিবীতে কত দ্বন্দ্ব কত সর্বনাশ,

নূতন নূতন কত গড়ে ইতিহাস-

রক্তপ্রবাহের মাঝে ফেনাইয়া উঠে

সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে।

সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা ক্ষুধা-

উঠে কত হলাহল, উঠে কত সুধা।

শুধু হেথা দুই তীরে, কেবা জানে নাম,

দোঁহা-পানে চেয়ে আছে দুইখানি গ্রাম।

এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে,

কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের